
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় কুঁড়া খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘ ২৩ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটি আজও ব্যবহার অযোগ্য পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
উপজেলার মাইজবাগ ও মগটুলা ইউনিয়নের বানাশ্রম, চরশংকর, ভাসা ও বটতলা গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ২০০৩ সালের ১৮ জুলাই প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের দুই দশকেরও বেশি সময় পার হলেও সেতুটির দুই প্রান্তে কোনো সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি।
ফলে সেতুটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
এ সেতুর ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বানাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মাইজবাগ পাঁচপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই পথে চলাচল করলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তাদের কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হয়।
বানাশ্রম গ্রামের কৃষক ইদ্রিস মিয়া বলেন, সকাল-বিকাল এই পথ দিয়ে কর্মা বাজারে যেতে হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে রাস্তা না থাকায় ওঠানামা করতে খুব কষ্ট হয়। পা ফসকে পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, সরকারি টাকায় সেতু বানানো হয়েছে, কিন্তু রাস্তা না থাকায় এটি কোনো কাজে আসছে না। এত বছরেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে সেতুটি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সাধারণত কাঁচা রাস্তায় এলজিইডি সেতু নির্মাণ করে না। এটি কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নিলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এ সেতুটি দ্রুত চালু করে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply