1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

ডিজেল সংকট: তাড়াইলে বোরো আবাদে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত

হুমায়ুন রশিদ জুয়েল, স্টাফ রিপোর্টার, তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

 

কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ, এ দেশে শতকরা ৮০ ভাগ  লোক কৃষির ওপর  নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাজবে  কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকগণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

সারের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার ডিজেল সংকটে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার বেশ কয়টি উপজেলা কৃষক, এর মধ্যে  তাড়াইল উপজেলার কৃষকরা বোরো চাষের ভরা মৌসুমে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে সেচ দিতে গিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।এতে করে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় সারের দাম বস্তা প্রতি ক্ষেত্রবিশেষে হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তৈরি হওয়া ডিজেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় তা যেন কৃষকদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক টাকা ও বোতল নিয়ে ডিজেলের জন্য গ্রামের খুচরা দোকান থেকে ৫০-৬০ টাকা অতিরিক্ত দামে অল্পকিছু ডিজেল ক্রয় করছেন। তবে এটিও তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

আব্দুল হাকিম, ফরিদ মিয়া, শফিক মিয়া, সালতু মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক জানান, এক বিঘা জমির ধান তুলতে কমপক্ষে ৫০ লিটার তেল লাগে। কোথাও কোথাও বেশিও লাগে। ধানের জমিতে সেচ দিতে হয় তিন মাসের মত। এতে ডিজেলের বর্তমান বাজারদর হিসেবে বিঘা প্রতি সেচ বাবদ খরচ হয় ৫-৬ হাজার টাকা।

এই তেল খোলা বাজারের দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে নিতে গেলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা বেশি লাগবে। তারা আরও বলছেন, সার-কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার ও ধান কাটতে লেবার ব্যয়সহ এক বিঘা জমির ধান ঘরে তুলতে মোট ব্যয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে হাজার থেকে ১২০০ টাকা দরে ধান বিক্রি হয়। জমিতে ফলন হয় ২২-২৩ মন। ইঞ্জিন ও অন্যান্য খরচ বাদে বিশ মনের মতো ধান টেকে। তাতে ধান বিক্রি করে মোটামুটি ২০ হাজার টাকা পান কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, ধান আবাদ করে খড় বাদে কোনো লাভ নেই তাদের। এর মধ্যে আবাদ ব্যয় বাড়লে অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার নেই তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, মুখের কথা ছাড়া বস্তুত তাদের কথা তেমনভাবে কেউই ভাবেন না। তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৩৬৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৪২০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাওর এলাকায় ধান দানা পর্যায়ে আছে, আর নন-হাওর এলাকায় থোর অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে সেচের প্রয়োজন নাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং