1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

অষ্টগ্রামে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা: সংকটে বোরো আবাদের ভবিষ্যৎ 

মাহবুব আলম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩০১ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার  খয়েরপুর–আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কলিমপুর, আব্দুল্লাহপুর, গয়েশপুর, খলাগাঁও ও বাজুকা হাওর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় বোরো মৌসুমে চাষাবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বছরের পর বছর পানি না নামায় বীজতলা তৈরি, জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ অঞ্চলের জমিগুলোতে সাধারণত রাসায়নিক সার লাগে না। হাওরের স্বাভাবিক উর্বরতার ফলে এসব জমিতে সাধারণ জমির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু পানি না নামায় এসব সম্ভাবনাময় জমি অনাবাদি থাকলে কৃষকরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর ধারণা, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫০০ একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকতে পারে। খাল খনন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছরই একই সমস্যায় কৃষকরা ভুগছেন। আগে স্থানীয় উদ্যোগে আংশিক পানি সরানো গেলেও এবার স্থায়ী সমাধান না থাকায় তারা পুরোপুরি অসহায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আব্দুল্লাহপুর–কলিমপুর হাওরের প্রায় ৪৫ শতাংশ ফসলি জমি এখনো পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এতে আগাম বীজতলা তৈরি এবং নির্ধারিত সময়ে রোপণ কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল জানান, এই জমিতে আমরা সার তেমন দিই না, কিন্তু ধান পাওয়া যায় বেশি। এখন পানি নামছে না, তাই লাভের জায়গাটা ক্ষতিতে পরিণত হচ্ছে।

কৃষক বোরহান মিয়া বলেন, অন্যান্য জমির চেয়ে এখানে দ্বিগুণ ধান হয়। এই জমিতে চাষ করতে না পারলে আমরা ঋণ শোধ করবো কী দিয়ে? সংসারই চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

স্থানীয় শাহজাহান মেম্বার বলেন, এ জমির ধানই অনেক পরিবারকে সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়। খাল ও ড্রেনেজ না করলে কৃষকেরা ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হবে।

খয়েরপুর–আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্ত) আনোয়ার হোসেন খান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের নিকট বারবার আবেদন করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষকের ক্ষতি অনিবার্য হয়ে উঠবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার জানান, আমরা বিষয়টি অবগত আছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে মৌখিকভাবে অবগত করেছি প্রয়োজনে লিখিত আকারে অবগত করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা এ বিষয়ে জানান, আমি এখানে নতুন এখনো সকল কিছু অবগত নই, ভুক্তভোগী কৃষকরা যদি একটি লিখিত আবেদন দেয় তাহলে আমি সেই আবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং