
কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানোর পরও স্বপদে বহাল রাখার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা গোয়েন্দা সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ভূমি অফিসে কর্মরত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে (মামলা নং ৬৯/২০২৫) মামলা হয়। মামলায় বাদি হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোঃ নূরুজ্জামান ফকির, যিনি সদর দপ্তর ডিজিএফআই থেকে সিকিউরিটি সুপারভাইজার পদ থেকে অবসরে গিয়েছেন।
নূরুজ্জামান ফকিরের অভিযোগ, অভিযুক্ত কামরুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু অপরাধীর সঙ্গে যোগসাজশ করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মারামারি ও ভাঙচুরের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। আদালত অডিও ও ভিডিও প্রমাণ যাচাই করে করিমগঞ্জ থানাকে মামলার এফআইআর রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
মামলা রেকর্ডের পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্ত হন। তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জামিন অযোগ্য অপরাধে আত্মসমর্পণ করেছেন, তাই বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা।
নূরুজ্জামান ফকির জানান, তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জের দপ্তরে অবহিত করেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগকারীর কাছ থেকে বারবার বিভিন্ন নথির সার্টিফাইড কপি চাওয়া হয়, যা তিনি সরবরাহ করলেও তিন মাসের বেশি সময়েও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এদিকে, গত ১৫ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা চার্জশীট ও শুনানির ভিত্তিতে আদালত কামরুল হাসানের জামিন বাতিল করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
বাদির দাবি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে কামরুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করার এখতিয়ার রাখে। কিন্তু অজানা কারণে প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা “বিধি বহির্ভূতভাবে অবৈধ সুবিধা প্রদান”-এর ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, “আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ন্যায়বিচারের আশায় বারবার দরজায় কড়া নাড়ছি। কিন্তু এখনো জানি না, সুবিচার পাব কি না।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নূরুজ্জামান ফকির বিষয়টি কর্ণেল জিএস, ডিজিএফআই ময়মনসিংহ শাখা বরাবর অবহিত করেছেন এবং অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জেল হাজতে থেকেও কোনোভাবে প্রশাসনিক সুবিধা না পান।
Leave a Reply