
ময়মনসিংহের নান্দাইলে গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামত, সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিযুক্ত নারী শ্রমিকদের কাছ থেকে রেভিনিউ টিকেট ক্রয় ও ট্রেজারী খরচের নামে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার এলজিইডি’র কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) পদে দায়িত্বরত সোনিয়া আক্তার শ্রমিকদের মাসিক বেতন ভাতা থেকে প্রতি মাসে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে কেটে নিচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলা এলজিইডি’র ‘পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড রোড মেইনটেনেন্স প্রোগ্রাম (আরইআরএমপি) প্রকল্পের আওতায় ৩৯ জন নারী শ্রমিক কাজ করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের মোট ৩৯ নারী শ্রমিক প্রতিদিনই স্ব-স্ব ইউনিয়নে দল বেঁধে সড়ক মেরামত ও সংরক্ষনের কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিমাসে মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা ধার্য্য করা হলেও নগদ পাচ্ছেন ৬ হাজার টাকা, আর ৩ হাজার টাকা প্রতি শ্রমিকের নামে সরকারিভাবে সঞ্চয় রাখা হচ্ছে। যা কর্মসূচি শেষে অর্থাৎ প্রকল্প শেষে পুরো টাকা একসাথে দেওয়া হবে। কিন্তু ওই হতদরিদ্র খেটে খাওয়া নারী শ্রমিকদের মাসিক বেতন হিসাবে ৬ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে রেভিউনিউ টিকেট ও ট্রেজারী খরচার নামে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৫০ টাকা। এতে প্রতি মাসে ১ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে যাচ্ছেন ওই প্রকল্পের সিও।
মঙ্গলবার, ১৩ মে নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি অফিসে সরেজমিন তদন্ত করে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। গাংগাইল ইউপির পূজা, বিউটি ও অঞ্জনী দাসসহ আরও অনেকে জানান, প্রতিবারই মাসিক বেতন উঠানোর সময় খরচার নামে ৫০ টাকা দিয়ে যাচ্ছেন ও সিও। চন্ডিপাশা ইউপি’র শ্রমিক নার্গিস ও চায়না আক্তার বলেন, রেভিনিউ টিকেট সহ আরও অন্য খরচা আছে তাই দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি অফিসের সিও সোনিয়া আক্তার ৫০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, রেভিনিউ টিকেট ও ট্রেজারী খরচার জন্য ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এটা প্রতি উপজেলায় নেয়া হয়, কোন কোন উপজেলায় ৮০ টাকাও নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।
নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক বিশ্বাস বলেন, এভাবে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এ মুহুর্তে মিটিংয়ে আছি পরে কথা বলছি বলে ফোন কল কেটে দেন তিনি।
Leave a Reply