1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন

কুলিয়ারচরে অর্থ আত্মসাতের মামলায় শিক্ষক আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

 

টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারার সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আর্থিক প্রতারণার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগে মো. আবুল কাসেম নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছে।

অভিযুক্ত আবুল কাসেম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার ‘আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতি এবং ছয়সূতি জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর বাজারের বাসিন্দা মো. মুক্তার মিয়া বাদি হয়ে কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন (সিআর মামলা নম্বর- ৮৮(৪)/২০২৬)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে আবুল কাসেম বাদির কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। সে সময় লিখিত স্ট্যাম্পে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধের অঙ্গীকারও করেছিলেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত শিক্ষক।

পরবর্তীতে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বাদি মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা নেয়ার স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় (প্রতারণা ও অসাধুভাবে সম্পত্তি সমর্পণ করানোর প্ররোচনা) মামলাটি করা হলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে আর্থিক প্রতারণার মামলার পাশাপাশি আবুল কাসেমের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শোচনীয় একাডেমিক ফলাফল নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২০২৪ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাসের হার ছিল শূন্য। ২০২৫ সালে ৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়। এছাড়া ২০২৬ সালে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।

অর্থাৎ, গত তিন বছরে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী এই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টানা তিন বছর শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান মান, শিক্ষকদের কার্যক্রম, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

মামলা ও কলেজের ফলাফলের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কাসেমের বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক বিপর্যয়কর ফলাফল এবং এর প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং