
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট সকাল ১১টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে সহযোগিতা করে কিশোরগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন।
এ সময় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলম রাশিদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন কিশোরগঞ্জের সহকারী উপ-পরিচালক ইসতেহাক আহম্মেদ।
প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দ্বায়িত্ব পালন করেন, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুলিয়ারচর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. রফিকুল বাহার।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিভিন্ন কারণ, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের করণীয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর তথ্য, বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনায় উঠে আসে দুর্নীতির ভয়াবহতা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের করণীয়।
এছাড়াও প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের শুরু হতে হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকেই। ঘুষ দেয়া ও নেয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি কেবল রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পথে বাধা নয়, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় হয়, সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের ভবিষ্যতে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
পুরস্কার বিতরণ শেষে আয়োজকরা বলেন, একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়তো একদিনে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারবে না। তবে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তার জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করে। ধারাবাহিকভাবে এমন কর্মসূচি আয়োজন করা গেলে সমাজে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা আরও বিস্তৃত হবে।
আয়োজকরা জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। তাদের প্রত্যাশা, আজকের সচেতন তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply