
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল পাক্কার মাথা এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে পাঁচজন মাদক কারবারি প্রকাশ্যে তওবা করে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার, ২৬ জুন জুমার নামাজের সময় তারা মাদক থেকে সরে দাঁড়াতে এই তওবা করেন।
অনুষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান।মাদক বিরোধী আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক স্থানীয় যুবকদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। মসজিদের পেশ ইমামের মাধ্যমে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা মাদকাসক্তি ও মাদক ব্যবসার ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব তুলে ধরে পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার এসআই আল নূর তারেক উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাক্কার মাথা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের প্রভাব উদ্বেগজনক। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অপরাধের তথ্য থাকলে গোপনে পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধান সমন্বয়ক আব্দুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের এজেন্ডার একটি বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই উদ্যোগ। “আমরা কারও বাড়িঘর ভাঙচুর বা কাউকে আঘাত করতে চাই না। যারা ভুল পথে চলে গেছে, তাদের আল্লাহর ঘরে এনে তওবার মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ইটনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. মোবারক হুসেন, বায়তুন নূর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হক এবং মাদক বিরোধী আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক।
অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী পাঁচ ব্যক্তি হলেন— শাহানশাহ (পিতা: আরফান শাহ), মো. রুবেল মিয়া (পিতা: মৃত আব্দুর রহিম), মো. রাসেল মিয়া (পিতা: মৃত জামাল উদ্দিন), মো. টুটুল মিয়া (পিতা: হুসেন মিয়া) এবং মো. সাঈদী (পিতা: আলী হুসেন)। তারা সবাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল ভট্টাচার্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী আত্মসমর্পণকারীদের সমাজের মূল ধারায় ফিরে আসতে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
Leave a Reply