1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

এবার কুলিয়ারচরে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে কুৎসিত যৌন নির্যাতনের দায়ে ইমাম গ্রেফতার

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ৭বছর বয়সী এক এতিম অবুঝ প্রতিবন্ধী মাদ্রাসা ছাত্রীকে কুৎসিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।

আটক ইমাম মো. মাহাবুব ওরফে মাহাবুল্লাহ (২৩) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার খলিশাপুর (বনপাড়া) গ্রামের মৃত শাহেদ আলীর ছেলে।

ওই ইমাম কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ডের একটি মাদ্রাসায় হাফিজি লেখাপড়া শেষ করে প্রায় এক মাস যাবৎ উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়াতেন।

রবিবার, ২৪মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মসজিদের ওই ইমাম মো. মাহাবুব ওরফে মাহাবুল্লাহ অসৎ উদ্দেশ্যে মক্তব সংলগ্ন তার থাকার রুমে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। বিষয়টি দেখে রাস্তায় থাকা লোকজনের সন্দেহ হয়। পড়ে দরজা বন্ধ করা রুম থেকে ডাকাডাকি করে ওই ইমামকে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য। ওই ইমাম নিজেকে অপরাধী স্বীকার করে উপস্থিত জনতার সামনে বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে তার রুমে ডেকে এনে রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় গত ১৪ মে সকাল ৯টার দিকে আরবি পড়া শেষে শিশুটি প্রতিবেশী চান্দু মিয়ার বাড়ি থেকে ওই ইমামের জন্য সকালের খাবার নিয়া মক্তবে গেলে ইমাম তার থাকার রুমে ওই শিশুটিকে নিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে একপর্যায়ে বিদেশি ফিল্মি স্টাইলে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাহার পুরুষাঙ্গ শিশুটির মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে যৌনকামনা চরিতার্থ করেন ওই ইমাম। শিশুটি ভয়ে এ ঘটনা কাউকে না বললেও অভিযুক্ত ইমামের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের পর শিশুটিকে জিজ্ঞেস করলে সেও একই রকম কথাই বলে।

একথা শুনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ওই ইমামকে মক্তব ঘরে তার থাকার রুমে আটক করে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার ও কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গেলে জনতা অভিযুক্ত ইমামকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে জানায় পুলিশ।

স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষি প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ আইনগত শাস্তির দাবি জানান।

এঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির মা বাদি হয়ে ওইদিন ২৪ মে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ২০০০সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আটক ইমাম মো. মাহাবুব ওরফে মাহাবুল্লাহ-কে গ্রেফতার দেখিয়ে ১৫ মে সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ ছাড়াই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পর জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাও সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। শিশু সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি আবারও সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং