
অষ্টগ্রাম উপজেলার হালালপুর গ্রামের চন্ডীতলা এলাকায় বিশ্ব শান্তি ও মানবকল্যাণে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় ২৭ ও ২৮ফেব্রুয়ারি, ১ ও ২ মার্চ ২৪ প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনদিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকা জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও ভক্তিময় আবহ।
কলমা, হালালপুর ও আসানপুর গ্রামের সকল গৌরভক্তবৃন্দের আয়োজনে মহাযজ্ঞটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজে নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতি বছরই এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
মহাযজ্ঞানুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধক ও পৌরহিত ছিলেন শ্রী অঙ্গদ দাস বৈষ্ণব। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে হরিনাম সংকীর্তনের মাহাত্ম্য তুলে ধরে বলেন, হরিনামই মানবমুক্তির পথ এবং নামসংকীর্তনের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান ও শুভ অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করেন শ্রীযুক্ত পলাশ কর্মকার (জুয়েল)। তাঁর সুমধুর কণ্ঠে পরিবেশিত কীর্তন উপস্থিত ভক্তদের মাঝে গভীর ভক্তিভাবের সৃষ্টি করে।
তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত খ্যাতনামা কীর্তনীয়া দল মহা নামসুধা পরিবেশন করেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ছিল—বেদবাণী সম্প্রদায় (কুমিল্লা), তৃষ্ণা মাধুরি সম্প্রদায় (ভোলা), নন্দ দুলাল সম্প্রদায় (কিশোরগঞ্জ), দীপু শ্রী সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ), কানু সুন্দর সম্প্রদায় (নেত্রকোনা) ও গীতাঞ্জলী সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ)। প্রতিটি দল পালাক্রমে হরিনাম সংকীর্তন পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে ভক্তিময় আবহ সৃষ্টি করে।
মহাযজ্ঞ উপলক্ষে চন্ডীতলা প্রাঙ্গণে সুসজ্জিত মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়। দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, নামসংকীর্তন এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজন ছিল। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক ভক্ত সমাগম ঘটে।
শেষ দিনে সমাপনী প্রার্থনা ও বিশেষ আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৪ প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম মহাযজ্ঞানুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
Leave a Reply