
দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই মব সৃষ্টি করে অযথা নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করা যাবে না। যারা বিগত দিনে অন্যায় অপরাধ দুর্নীতি লুটপাট করেছে, তাদের বিচার করতে হবে। সমাজ থেকে মাদক, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ নির্মূল করে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করাই হবে আমাদের কাজ। বিগত সরকারের আমলে যা হয়েছে, সেটা আর করতে দেওয়া যাবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় অপরাধ করলে আমি ছাড় দেব না।
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি তার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের নিজ এলাকা কুলিয়ারচরে প্রথম সফরে এসে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যে কোন বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন। আপনাদের পরিচয়ের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। আপনাদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া আমাকে বিব্রতকর কোন অভিযোগ দেয়া যাবে না। আমরা এমন কোন কাজ করতে চাই না, যা নিয়ে সরকার বিব্রত হবে, দল বিব্রত হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এটাই হবে আমার প্রধান কাজ। আমি অনেক কষ্ট করে, অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর এই জায়গায় এসেছি। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির জন্য আমার অবস্থান নষ্ট হবে- আমি তা মেনে নিবো না। তিনি আমার পরিবারের হোন আত্মীয় হোন বা যে কেউ হোন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। অন্যায়ের সাথে কারো জড়িত হওয়া যাবে না। আমি সৎ ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে চাই। তাতে আমার সাথে কেউ থাকুক আর নাই থাকুক আমার দেখার কোন বিষয় না।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম আরো বলেন, আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিবোনা, অন্যায়করীকে অন্যায়কারীই বলবো। সে আমার আত্মীয় হোক বা যে কেউই হোক। প্রথমে আমরা তাকে বোঝাবো, না হয় কাউন্সিলিং করবো একটা পর্যায়ে যদি কথা না শুনে আইনের গতিতে আইন চলবে সেখানে আমাদের কথা বলার সুযোগ নেই। আমাদের আইনের শাসন নাই, আমাদের ন্যায্য হিস্যা নাই। আমাদের অধিকার বিবর্জিত। সেই কারণে এই অভ্যুাত্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেই ইতিহাস ভুলে যেতে চাই। আমরা নতুন বাংলাদেশে ’৭১ আর ’২৪ এর চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই।
মো. শরীফুল আলম আরো বলেন, আমি আপনাদের নেতা নই, এমপি নই, আমি আপনাদের একজন সেবক। আপনাদের খাদেম। আমি আপনাদের সন্তান। আমি জিয়া পরিবারের একজন কামলা। এখন সরকারের একজন কামলা হয়েছি।
সরকারের পক্ষ থেকে আমার দায়িত্ব থাকবে আপনাদের জন্য কাজ করা। দোয়া করবেন আমি যেন সরকারের মন্ত্রণালয়ে নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করতে পারি। কুলিয়ারচরের মানুষের যে স্বপ্ন উন্নয়নসহ মাদক, ছিনতাই মুক্ত কুলিয়ারচর গড়ে তোলা। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করবো।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম আরো বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আমার মন্ত্রণালয়ের মধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিসিক ও স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ বড়, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প নিয়ে কাজ করা শুরু হবে। কুলিয়ারচরে বিসিক নাই। বিসিক গড়ে তোলার জন্য কাজ করবো। ভৈরবের বিসিক সচল নয় এটাকে সচল করে গড়ে তুলতে কাজ করা হবে। দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। যেগুলো সরকারের অধীনে রয়েছে সেইগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কাজ করা হবে। এদেশে বেকার যুবকদের বেকারত্ব দূর করতে সরকার কাজ করছে।
এসময় তিনি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে হতদরিদ্রদের জন্য সহায়তাসহ কার্ড আসবে। সেগুলো যাতে হতদরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছে। আপনারা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হোন সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বয়স্ক ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা দিতে গিয়ে যদি কেউ কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের দেয়া কার্ডের বিনিময়ে কোন উৎকোচ নেয়া মেনে নেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় অপরাধ করলে আমি ছাড় দেব না। কুলিয়ারচরের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তাঘাট, শহরকে আধুনিকায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।
সভায় উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনের আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি আম গাছের চারা রোপন করেন তিনি।
Leave a Reply