1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

বৃষ্টির থাবায় ডুবছে  হাওরের কৃষকের স্বপ্ন!

নূর আহাম্মদ পলাশ, চিফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

 

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। অসময়ের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের কষ্টের সোনালী ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, আর চোখের সামনে স্বপ্নভঙ্গের দৃশ্য দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান পুরোপুরি পাকার আগেই আধা-পাকা ও কাঁচা অবস্থায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণে। অনেক স্থানে পাকা ধানও রক্ষা পায়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির পাকা ও আধা-পাকা ধান পানির নিচে চলে গেছে। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের সারা বছরের একমাত্র অবলম্বন এই ফসলই এখন ধ্বংসের পথে।

নিকলীসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, যেসব ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে, তা-ও রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না। উঠান কিংবা রাস্তার ওপর স্তূপ করে রাখা ধান পচে যাওয়া বা অঙ্কুরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা কৃষকের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফসলহানির ফলে তারা এখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এতে করে হাওর এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকদের ভাষ্য, “হাওড় এখন সোনালী ধানে ভরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্ন আজ পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।”

এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনা এবং হাওর রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুর্যোগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং