
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিল মাকসা নামক জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের লাউড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জলমহালটির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় উপজেলার ভুমি কর্মকর্তা আব্দুল আহাদসহ পুলিশের একটি ইউনিট বিল মাকসা জলমহালে গেলেও কোন সমাধান হয়নি।
এরই জেরে রাতে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বাঙালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক মুর্শেদ ই কামালের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ তার সঙ্গীদের উপর নওগাঁ যাওয়ার পথে অতর্কিতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও মারধোর করে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন, হুমায়ুন কবির দানার ছেলে তিতুমীর হোসেন সোহেল (৩৫), অজু মিয়ার ছেলে তাকবীর (২৮), মীর বাদলের ছেলে মীর রাফি (২৩), এবং কায়েস ভূইয়ার ছেলে রিমন (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল সভাপতিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার সঙ্গে থাকা তিনজনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহতদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ছাত্রদল সভাপতি তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, বিল মাকসা জলমহাল দখল নিয়ে আমাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। আমরা দোষিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান জানান,ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে অষ্টগ্রাম সদর ও আশপাশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
Leave a Reply