
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অনাবাদি জমিতে হাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীও রয়েছেন। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর স্বর্ণের চেইন ও তার শাশুড়ির রুপার চেইন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নিজ পুবাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত স্বপন মিয়ার বাবা সিরাজুল হক (৬৮) বাদি হয়ে একই গ্রামের মোশারফ হোসেন (৫০) ও তার দুই ছেলে শিমুল মিয়া (২৫) এবং বাবু মিয়ার (২৭) বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহতরা হলেন, স্বপন মিয়া (৩৮), তার মা রাশিদা বেগম (৬৩) এবং তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিয়া আক্তার (৩৩)।
রবিবার,১৮ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের একটি অনাবাদি জমিতে সিরাজুল হকের পরিবারের পালিত হাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার সিরাজুল হকের বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্তরা গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় বাধা দিলে মোশারফ হোসেনের নির্দেশে তার ছেলে শিমুল মিয়া হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে সিরাজুল হকের ছেলে স্বপন মিয়ার মাথার দুই পাশে পরপর দুটি আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে স্বপন রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাবিয়া আক্তারকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সাবিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় তার গলায় থাকা আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং শাশুড়ি রাশিদা বেগমের গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেয়া হয়। চেইন উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন জানান, ঘটনার দিন তার ছেলে শিমুল মোটরসাইকেলে করে মাজার বাজারে যাওয়ার পথে দেখতে পান, প্রতিপক্ষের হাঁস ধানখেতের পাশের একটি পুকুরে নেমে মাছ খেয়ে ফেলছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষরা শিমুলকে আটকে মারধর করেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রোমন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply