
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আলোচিত রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ‘আন্ডা রফিক’কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার পর হঠাৎ তার গা ঢাকা দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগেও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার এমন উপস্থিতিতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রফিকের বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রতারণা, ভুয়া দলিল তৈরি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি এবং নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এসব অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নাওড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাকে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছেন না। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন, এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
এক ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে তারা হতাশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগ করলে বিচার পাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তিনি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এখন দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে পুরো বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, “রফিক প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে—এমন তথ্য আমরা যাচাই করছি। যেহেতু তিনি মামলার আসামি, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে না। তিনি জামিনে আছেন কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
Leave a Reply