
ঈদকে সামনে রেখে ভৈরবে যাতায়াত খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ভ্যাটেক) ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। বিশেষ করে ২৭ রমজান থেকে এ পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, স্বল্প দূরত্বের ভাড়াও দ্বিগুণ বা তারও বেশি নেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনছেন।
যাত্রী আবুবকর জানান ভৈরব থেকে কটিয়াদীর সিএন্ডজি ভাড়া ছিল ৮০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে আসা ও যাওয়ায় আমার দিতে হল ৪০০ টাকা। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
একাধিক যাত্রী জানান, আগে যেখানে ২০-৩০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। চালকদের সঙ্গে দরকষাকষি করেও অনেক সময় কোনো সমাধান মিলছে না।
এ বিষয়ে কয়েকজন চালক জানান, ঈদের আগে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় এবং সময়ের সংকট থাকায় তারা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে সচেতন মহল বলছে, এটি কোনোভাবেই ন্যায্য নয় এবং এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া আদায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
সমাধানে করণীয়:
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ সমস্যা নিরসনে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত নির্ধারিত ভাড়া তালিকা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা
নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা
একই সঙ্গে চালকদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাড়া নির্ধারণ করতে, যাতে ঈদের আনন্দ সবার জন্য সমানভাবে উপভোগ্য হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভৈরবের যাতায়াত ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব হবে।
Leave a Reply