
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো কিশোরগঞ্জ জেলাতেও চলতি আমন মৌসুমে বেঙ্গল এনপিকেএস (NPKS) মিশ্র সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এই সার ব্যবহার করলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু এখন বাজারে সরবরাহ না থাকায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বলেন, বীজতলা থেকে শুরু করে মূল জমি পর্যন্ত বেঙ্গল এনপিকেএস মিশ্র সার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে এ সার পাওয়া যাচ্ছে না। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক মো. শাহেদ মিয়া বলেন, ‘আমন মৌসুমের শুরু থেকে বাজার ঘুরেও সার পাইনি। ভৈরব বাজারে সামান্য আসে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে জমিতে সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে পারছি না।’
বুধবার, ১৫ অক্টোবর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন আশঙ্কার কথা জানা গেছে। তারা আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। এতে শুধু কৃষকদের লোকসানই নয়, সামগ্রিকভাবে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তাড়াইলের ধলা ইউনিয়নের চাষি নূর উদ্দিনের অভিমত, বিকল্প রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে খরচ বেড়ে যায়, অথচ ফলন ততটা ভালো হয় না। তার ভাষায়, ‘বেঙ্গল সার না পেয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। ধান ঠিকমতো বেড়ে উঠবে কি না, এখন সেই চিন্তায় আছি।’
এদিকে করিমগঞ্জের স্থানীয় ডিলার প্রতিনিধি জনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জনি খান জানান, মূলত কোম্পানির উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোম্পানির কাছে কাঁচামালের সংকট রয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে, আর তার প্রভাব পড়েছে বাজারে।’
বেঙ্গল ফার্টিলাইজার কোম্পানির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার মিশ্র সার উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ কাঁচামাল বরাদ্দ দেয়, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বোরো মৌসুমেই বেশির ভাগ কাঁচামাল শেষ হয়ে যায়, ফলে আউশ ও আমন মৌসুমে উৎপাদনে সংকট দেখা দেয়।
হোসেনপুরের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব বাজারে বেঙ্গল এনপিকেএস সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে জমিতে সময়মতো সার দিতে পারব না, ফলে ফলনও কমে যাবে।’
Leave a Reply