
কিশোরগঞ্জ -৩ (করিমগঞ্জ -তাড়াইল) সংসদীয় আসনে করিমগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা, তাড়াইল উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।এ আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থীতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নানা জল্পনা কল্পনা আর হিসাব নিকাশ। বিগত তিন মেয়াদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটের দেখা পাননি ভোটাররা। প্রশ্নবিদ্ধ ওইসব নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরপর তিনটি নির্বাচনে নৌকার কোন প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচন করে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এর পরিণতিতে এ আসনে দুর্বল হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি।
৫ অগাস্ট পট পরিবর্তনের পর সেই হিসাব পাল্টে গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড.ওসমান ফারুক এবার নির্বাচনের জন্য মাঠে রয়েছেন। কিশোরগঞ্জ -৩ আসন থেকে আগে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। সেই আসন ফিরে পেতে এবার মাঠে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় ভোটের মাঠ এখনো চাঙা হয়নি।পতিত আওয়ামী লীগ মাঠ ছাড়া হওয়ার পর বিএনপি গ্রুপিং অনেকটা প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। এ আসনে ড.এম ওসমান ফারুকের প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া বিএনপি থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেরট জালাল মোহাম্মদ গাউস,যুব বিষয়ক সম্পাদক ও করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভিপি সুমন প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এলাকায় তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামী কোন সময় বিজয়ী না হলেও পট পরিবর্তন পর ভিন্নভাবে মাঠে এগুচ্ছে তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও এবার সাংগঠনিক সভা সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে অবস্থান জানান দিচ্ছেন। সম্প্রতি ঘোষিত সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক ও জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ডা.জেহাদ খান সাংগঠনিক ভাবে সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক আলমগীর হোসেন তালুকদার দল থেকে প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি নেতা অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু এ আসন থেকে প্রথম নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালেও নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে মহাজোট থেকে মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ভোটার বিহীন নির্বাচনে মুজিবুল হক চুন্নু আবারো নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনেও মুজিবুল হক চুন্নু এমপি নির্বাচিত হন।সর্বশেষ ২০২৪ সালের ‘ডামি’ নির্বাচনেও অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু ষষ্ঠবারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। রাজনীতিতে কূটকৌশলী হলেও এবার তিনি প্রার্থী হয়ে মাঠে নামতে পারবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
Leave a Reply