1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

ভৈরবে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে ভারতীয় কাপড়সহ ৪জন আটক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বালু বোঝাই একটি বাল্কহেড থেকে ভারতীয় শাড়ি, লেহেঙ্গা, চাদরসহ বিভিন্ন বস্ত্রপণ্য আটক করেছে ভৈরব নৌ থানা পুলিশের একটি ইউনিট। সেই সাথে এঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে নৌপুলিশ।

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি বিকাল ৪ টার দিকে কালিপুর পাওয়ার প্লান্ট এলাকার মেঘনা নদী থেকে বাল্কহেডটি আটক করে ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে জব্দকৃত বস্ত্রপণ্যের বস্তাগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় বল্কহেড সুকানিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। বিডিচ্যানেল ফোরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। কিন্তু জব্দ করা বস্ত্রপণ্যের কতগুলো বস্তা ছিলো তার সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেনি দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক নাসির ও আব্দুল কুদ্দুস। 

নৌ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেঘনা নদীতে টহল জোরদার করা হয়। বিকাল চারটায় নৌ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কালিপুর পাওয়ার প্লান্ট এলাকার মেঘনা নদী থেকে প্রথমে বাল্কহেড আটক করা হয়। পরে ফেরিঘাট এলাকার জেটি ঘাটে তল্লাশি করে বালু বোঝাই বাল্কহেডের একপাশে রাখা ভারতীয় পণ্য বোঝাই ১০০ টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসময় বল্কহেডের সুকানী, সহযোগী ও চোরাচালানের সাথে জড়িত দুইজনসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়।

কিন্তু বাল্কহেডটি যখন ফেরিঘাট এলাকার নিয়ে জব্দ করা পণ্যের বস্তাগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়  তখন এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমরা দেখিছি বালুবাহি নৌকা ঘাটে ভিড়ার পর সেখান থেকে ১৩০-১৫০ বস্তা ভারতীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পুলিশ বলছে জব্দ করা কাপড়ের বস্তার সংখ্যা ১০০টি।

পণ্যের বস্তা খালাসকারি লেবাররা বলেন, আমরা এই নৌকা থেকে প্রায় ১৩০টি বস্তা মাল নৌ-থানায় নিয়ে যাই।

এ ঘটনায় আটক ৪ জনের মধ্যে বাল্কহেড সুকানী রুবেল মিয়া (৩৭) বরগুনা জেলার সদরের ডালভাঙ্গা গ্রামের রসিদ মিয়া ছেলে, তার সহযোগী মিজানুর রহমান (২২) একই উপজেলার চরগাছিয়া গ্রামের সোহরাফ মিয়ার ছেলে, কামাল মিয়া (২৫)  সুনামগঞ্জ জেলার বালিকান্দি গ্রামের মৃত মোবারকের ছেলে ও জিহান মিয়া (১৮)। একই জেলার মইনপুর গ্রামের ছাইফুল মিয়া ছেলে।

এদিকে খবর পেয়ে বিকাল ৬টার দিকে সাংবাদিকরা নৌ থানায় গেলে কর্তব্যরত অফিসারগণ তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। সাংবাদিকদের চাপের মুখে রাত সাড়ে ৭টায় সংবাদিকদের থানায় প্রবেশ করতে দেয় নৌ থানা-পুলিশ ৷

এ বিষয়ে বাল্কহেডের সুকানী রসিদ মিয়া জানান, দুই দিন আগে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জ থেকে ভারতীয় বস্ত্রের বস্তা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সুনামগঞ্জ এলাকার আলাউদ্দিন মিয়া নামের এ ব্যক্তির নির্দেশেই মালামালগুলো ঢাকার মেঘনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন বলেন জানান তিনি। তবে কতগুলো বস্তা তা তিনি জানেননা।

এ বিষয়ে সন্দেহভাজন চোরাচালান দলের সদস্য জিহান মিয়া জানান, চার হাজার টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জ এলাকার আলাউদ্দিন মিয়ার কথায় বাল্কহেডের সাথে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তারা। ঢাকায় গেলে পণ্য বুঝে পাওয়া ব্যক্তিরা তাদের ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে ফেরার বাসে তুলে দিবেন-এমন কথা ছিল।

এ বিষয়ে ভৈরব নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, আনুমানিক ১০০ বস্তাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বস্তার মধ্যে ভারতীয় শাড়ি, লেহেঙ্গা, চাদরসহ বিভিন্ন বস্ত্র রয়েছে। বস্তা বেশি হওয়ায় পরিপূর্ণ তথ্য দিতে সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং