সকাল থেকে সাধারণভাবে বিক্ষোভ চললেও বেলা ১১টার দিকে শহরের স্টেশন রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি মিছিল গৌরাঙ্গ বাজারে এলে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে স্টেশন রোডে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙ্গচুর করে। পুড়িয়ে দেয়া হয় অফিসের সামনে থাকা ৯টি মোটরসাইকেল। এ সময় আওয়ামী লীগের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে সারা শহর জুড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে মাঠ ছেড়ে চলে যায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাফুল ইসলাম টিটুর খরমপট্টি এলাকার বাসায় ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। সেখানে আগুনের ধোয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান তিনজন। বিক্ষোভকারীরা ভবনের নীচতলায় থাকা দুটি গাড়িতে আগুন দিলে গাড়ি দুটি ভস্মিভূত হয়।
এতে নিহতরা হলেন সদর উপজেলার যশোদল এলাকার বাসিন্দা মবিন (৩৮), একই এলাকার অঞ্জনা বেগম (৩৫) ও তার সাত বছরের এক মেয়ে শিশু এবং অজ্ঞাত আরো একজন। সংঘর্ষে আহত শতাধিক লোককে কিশোরগঞ্জ সদরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা একপর্যায়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরা পিছু হটে।।
এ সময় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা এলাকা থেকে গৌরাঙ্গ বাজার পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে থেমে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসময় পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতশত রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেট ছোঁড়ে।
এ পরিস্থিতিতে সারা শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। সংঘর্ষ শুরু হলে শহরের বিপণিবিতানসহ সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।। সংঘর্ষের পর স্টেশন রোডের থানা এলাকা থেকে পুরান থানা পর্যন্ত সড়কে ধাতব ও ছররা গুলির শত শত খোসা, বুলেট ও ইটের টুকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের কয়েকজন বিডিচ্যানেল ফোরকে বলেন, এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তারা মাঠে থাকবেন। অপর দিকে সরকার সমর্থক কয়েকজন বলেন, মাঠে থেকে আমরা সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করবো।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে সন্ধ্যার পর থেকে শহরের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
Leave a Reply