1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১০:২৯ অপরাহ্ন

শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

আশরাফুল ইসলাম তুষার, চিফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ ১৯৭ তম পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল সকাল ১০ টায় এই ঈদগাহে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বড়বাজার মসজিদের খতিব শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ।

বড় ঈদগাহ, বড় জামাত। বেশি মুসল্লির সঙ্গে জামাত আদায় করলে দোয়া কবুল হয়-এমন আকর্ষণে সকাল থেকেই এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য কিশোরগঞ্জ ও আশপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন মুসল্লিরা।

এছাড়াও দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের ঈদগাহ মাঠে আসার সুবিধার্থে ঈদের দিন সকালে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুইটি স্পেশাল ট্রেন যাতায়াত করেছে।  

ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এসময় ঈদ জামাতে উপস্থিত ছিলেন-শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বিপিএম-সেবা পিপিএম বার,কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।

এদিকে ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে গড়ে তোলা হয় চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহর এবং আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি।এবার ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে সাদা পোশাকে ১৮৭ জন,ট্রাফিকে ৪৯ জন,পুরো পোশাকে ৮৮০ জন অফিসার ফোর্স মোতায়েন করা হয়।এছাড়াও র‌্যাবের টিম (প্রতি টিমে ছয়জন করে) ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন ছিল। পুরো মাঠ পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হয়েছিল ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। এ ছাড়া এপিবিএন এবং বিজিবি ও  মোতায়েন ছিল। পুরো মাঠ নজরদারির জন্য ড্রোন উড়ে শোলাকিয়ায়। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয়েছিল ১৩টি আর্চওয়ে। বসানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। এ ছাড়া আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা থেকে এসেছিল বোম ডিসপোজাল টিম। ছিল ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনটি মেডিকেল টিম। দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

৪টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন ও সিসি ক্যামেরা ছাড়াও ড্রোন ঈদগাহের ভেতর ও বাইরের এলাকায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিল।  

ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট ২৩টি ফটকের মধ্যে ৫টি ফটকের প্রবেশপথ উন্মুক্ত রাখা হয়। এসব প্রবেশপথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিরা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করেন।  

এর আগে তিন দফা মেটাল ডিটেক্টরে সবার দেহ তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধু জায়নামাজ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়।  

এদিকে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ও ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ লাইনে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করে।শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-১১ ভৈরব থেকে ছাড়ে সকাল ৬ টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছে সকাল ৮টায়,আবার শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল -১২ কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২টায় ভৈরব পৌঁছে দুপুর ২টায়। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল -১৩ ময়মনসিংহ থেকে ছাড়ে সকাল পৌনে ৬টায়, কিশোরগঞ্জ পৌঁছে সকাল সাড়ে ৮টায়, আবার শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল -১৪ কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২টায় এবং ময়মনসিংহে পৌঁছে বেলা ৩টায়।

শোলাকিয়া মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী, ঈদের জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সঙ্কেত দেয়া হয়।

জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং