
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় নিরীহ আব্দুর রহমানের পরিবারকে জমি সংক্রান্ত জেরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার মুশুল্লী ইউনিয়নের নবীয়াবাদ গ্রামের মৃত আ: ছোবহানের পুত্র বিল্লাল মিয়া, মিলন মিয়া এবং বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী ময়না আক্তারের বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আব্দুর রহমানের পরিবারের উপর জমি সংক্রান্ত হামলার জেরে শুরু হলেও, বর্তমানে এটি ময়না আক্তারের গর্ভপাত সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে নতুন মোড় নিয়েছে, যা আব্দুর রহমানের পরিবারকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। জানা গেছে, গত কয়েক মাস পূর্বে আব্দুর রহমান বিল্লাল গংদের হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে মামলার নোটিশ পাওয়ার পর বিল্লাল গং ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রহমানের বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। পাশাপাশি আব্দুর রহমানের মামাতো ভাই ও খালার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এই ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর আব্দুর রহমান বাদি হয়ে বিল্লাল মিয়া, মিলন মিয়া, ময়না আক্তারসহ আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় ২৬৭১ ক্রমিক নম্বরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর কোন মারামারির ঘটনা না ঘটলেও, ৮ সেপ্টেম্বর বিল্লাল মিয়া তার অন্তসত্বা স্ত্রী ময়না আক্তারকে মারধরের অভিযোগ এনে নান্দাইল মডেল থানায় ২৬৮৩ ক্রমিক নম্বরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগে বলা হয়, আব্দুর রহমান ময়না আক্তারের পেটে লাথি মেরে গুরুতর জখম করেছেন, যার ফলে তাৎক্ষণিক রক্তপাত শুরু হয় এবং পরে ময়না আক্তারের গর্ভপাত ঘটে।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় দুইজন মিডিয়াকর্মী আব্দুর রহমানের বাড়িতে হামলার ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে ময়না আক্তারকে মারধরের কোনো তথ্য পাননি। এমনকি ওই দিন ময়না আক্তার নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবাও নেননি, অথচ পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে তার স্বামী বিল্লাল মিয়া বলেন, ৭ই সেপ্টেম্বর নান্দাইল উপজলো হাসপাতালে ময়না আক্তার চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এদিকে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের রেজিস্ট্রি পুলিশ কেস খাতায় এন্ট্রি করানো হলেও অজ্ঞাত কারণে কোন চিকিৎসা গ্রহণ করেননি। তাছাড়া কর্তব্যরত ডাক্তার ময়না আক্তারকে মমেক হাসপাতালে রেফারও করেননি।
পরবর্তীতে ১০ ময়নাকে সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়। ময়না আক্তারকে মারধরের ঘটনাটি সাজানো এবং নিরীহ পরিবারকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে আব্দুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন জানান। পাশাপাশি ওই মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা জানান, ৭ তারিখে ময়না আক্তার নামে কোন এন্ট্রি নাই, ৯ তারিখে রেজিস্ট্রি খাতায় এন্ট্রি থাকলেও তারা এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেননি, তাই এখান থেকে রেফারও করা হয়নি। অভিযুক্ত বিল্লাল মিয়ার সাথে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply