
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসার তকমা দিয়ে একাধিক বাড়িঘর ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সুজন ও শহিদুল ইসলামের সাথে একই এলাকার মৃত লাল মাহমুদের ছেলে কামাল হোসেনের জমি নিয়ে গত ৬-৭ বছর ধরে বিরোধ চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কামাল হোসেন ইতোমধ্যে সুজন ও শহিদুল ইসলামের প্রায় ৪৩ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, জমি দখলের পরও ক্ষ্যান্ত না হয়ে গত শুক্রবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক মাদক ব্যবসায়ী তকমা দিয়ে তাদের বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মো. সুজন ও শহিদুল ইসলামের বাড়িঘর এবং সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
শুধু তাই নয়, একই সময়ে হামলাকারীরা বর্তমান ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু এবং মনজিলা মেম্বারের বাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে মৃত লাল মাহমুদের ছেলে কামাল হোসেন ছাড়াও মৃত ফুল মাহমুদের ছেলে মন্নান ও ফাইজুল, জুবাইয়ের হোসেনের ছেলে ডালিম, মৃত মনসুর আলীর ছেলে বাবলু, মুখলেস ও বিপুল, বাবলুর ছেলে টিপু, মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে কামরুল ইসলাম, মুসলিমের ছেলে মনজিল এবং হেলাল উদ্দিনের ছেলে শান্ত ও প্রান্তসহ বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে মূল অভিযুক্ত কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, যাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে তারা মাদক ব্যবসায়ী। এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। এই ঘটনার সাথে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা হাত নেই।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply