
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। হত্যা নাকি সড়ক দুর্ঘটনা, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি এখনো। এমনকি শনাক্ত করাও যায়নি যুবকের পরিচয়।
সোমবার, ১জুন ভোরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার গণখকালী ব্রিজ থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যন্ত এমন বক্তব্য ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের।
পুলিশ জানিয়েছেন, পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ শুরু করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেও এখন পর্যন্ত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিকগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে স্থানীয়দের মধ্যেও। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি ঘটেছে শেষ রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে। কিন্তু ওই সময়ে গণখকালী ব্রিজ এলাকায় সড়কে সাধারণ পথচারীর উপস্থিতি খুবই বিরল। যদি যুবকটি পথচারী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আশপাশের কোনো এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু এত সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ তাকে শনাক্ত করতে না পারায় রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।
আরও বিস্ময়ের বিষয়, মরদেহ উদ্ধারের সময় যুবকের পরনে ছিল শুধু একটি প্যান্ট। গায়ে কোনো শার্ট বা গেঞ্জি ছিল না। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি ওই অবস্থাতেই সেখানে পৌঁছেছিলেন, নাকি মৃত্যুর পর তার শরীর থেকে পোশাক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে? যদি এটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তবে পোশাকের এমন অবস্থা কেন? আর যদি হত্যাকাণ্ড হয়, তাহলে তাকে কোথায় হত্যা করা হয়েছিল এবং কেন মরদেহ এনে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হলো?
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, পরিচয়হীন মরদেহ, শরীরে পোশাকের অস্বাভাবিকতা এবং গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটার সম্ভাবনা মিলিয়ে পুরো বিষয়টি এখন এক রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন, অজ্ঞাত এই যুবক কে?কেন তিনি গভীর রাতে ওই এলাকায় ছিলেন? আর তার মৃত্যু কি দুর্ঘটনায়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো হত্যার ঘটনা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন খুঁজছে পুলিশ।
Leave a Reply