1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরগঞ্জে দুই গ্রামের সংঘর্ষ ও একজন নিহতের ঘটনায় ১৯১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩

উবায়দুল্লাহ রুমি,স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ও একজন নিহতের ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বিকেলে ব্রহ্মপুত্র নদের বটতলা বালুর ঘাট এলাকায় ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে মরিচারচর ও চরআলগী গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রবিবার দুপুরে উচাখিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নির্দেশে মরিচারচর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম এবং তার মামা আব্দুল খালেক সরকারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা চরআলগী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে চলমান মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল নষ্ট করে। পাশাপাশি কনের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া সংঘর্ষের সময় ১৫টি বাড়ির প্রায় ৫০টি ঘর ভাঙচুর করা হয়, একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২৫টি গবাদিপশু ও ১০টি পানির পাম্প লুট করে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় চরআলগী গ্রামের খলিলুল্লাহ কানন বাদি হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মরিচারচর গ্রামবাসীর পক্ষে অভিযুক্তদের একজন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অনেকগুলোই অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।  ঘটনার শুরু হয়েছিল চর আলগি গ্রামের কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের ইভটিজিং এর কারণে। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের গ্রামের শিপন মিয়া গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আমরা মনে করি, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারা প্রকৃতপক্ষে হামলা, ভাঙচুর বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখি এবং চাই প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক, একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম জানান, ঘটনার পর সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ (উত্তর) জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আশরাফুল আলম এবং গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মনতোষ বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মরিচারচর গ্রামের শিপন মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে মরিচারচর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শিপন মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং