
গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে অপহরণ ও কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ ও র্যাব-১ উত্তরা ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল।
গ্রেফতার মো. জাহাঙ্গীর(৪৫) কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
শনিবার, ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার কিছু পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আফতাব সিএনজি স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিডিচ্যানেলফোরকে বিষয়টি জানান, র্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের মিডিয়া অফিসার সিনিয়র সহকারী পরিচালক।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়,ভিকটিম ফাতেমা আক্তার(৩৫) বিবাহিত এবং ১ কন্যা সন্তানের জননী। ভিকটিম স্বামীর বাড়ি থেকে তার কর্মস্থল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত যাতায়াতকালে গ্রেফতার আসামিসহ এজাহার নামীয় আসামিরা উত্যক্ত করতো। বিষয়টি বাদি জানতে পেরে গ্রেফতার আসামিসহ এজাহারনামীয় আসামিদেরকে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদিকে খুন করার হুমকি প্রদান পূর্বক ভিকটিমকে জোরপূর্বক অপহরণ করার হুমকি দেয়।
এক পর্যায়ে চলতি বছরের গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল অনুমান ৯ টার দিকে ভিকটিম তার কর্মস্থলে আসার পথে গ্রেফতার আসামি বিবাহের প্রলোভন দিয়ে এজাহারনামীয় আসামিদের সহযোগীতায় ভিকটিমকে অপহরণ করে সিলেট মৌলভী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে।
ওই অজ্ঞাতস্থানে ভিকটিমকে গ্রেফতার আসামি বিবাহের প্রলোভন দিয়ে ভাড়া বাসায় অবস্থান করতে থাকে। ভিকটিমকে বিবাহের প্রলোভন দিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। ভিকটিম গ্রেফতার আসামিকে বিবাহের জন্য চাপ প্রদান করলে ভিকটিমকে তিনি শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। গত ১৭ অক্টোবর যে কোন সময় এজাহারনামীয় আসামিদের প্ররোচনায় গ্রেফতার আসামি ভিকটিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতঃ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভিকটিম গুরুতর অসুস্থ হলে গ্রেফতার আসামি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে পালিয়ে যান এবং ভিকটিমের পরিবারকে অবহিত করেন। ওই হাসপাতালে ভিকটিমের অবস্থার অবনতি হলে ভিকটিমের পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা জাতীয় বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ নভেম্বর অনুমান দুপুর ১ টার দিকে ভিকটিম ফামেতা আক্তার মৃত্যুবরণ করেন।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান, পিতা-মৃত জলিল মিয়া, সাং-পাঁচধা, থানা-সদর, জেলা-কিশোরগঞ্জ বাদি হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর সিপিসি-২, র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর হয়।
এরই ধারাহিকতায় র্যাব আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply