1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ,স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

 

মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, মা-বোনকে মারধর এবং অবশেষে নিজেদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে কুলিয়ারচর পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লার হাবিব কাউন্সিলরের বাড়ি সংলগ্ন আবু বক্করের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে আসবাবপত্র, পড়নের কাপড়, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাছাড়া, ঘর তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে থাকা ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। 

অভিযুক্ত ফুল মিয়া স্থানীয় আবু বক্করের বড় ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে বাড়ির পাশের একটি দোকানে বাকিতে পণ্য চান ফুল মিয়া। দোকানদার আবুল হোসেন (৬০) বাকি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড দিয়ে মারধর করেন ফুল মিয়া। এরপর আহত আবুল হোসেনকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে বাবা আবু বক্করের সঙ্গে ফুল মিয়ার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি মা রুবিনা বেগম ও বোনকে বেধড়ক মারধর করেন।

কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফুল মিয়া পরিবারকে ধারালো দা নিয়ে কোপাতে এলে মা রুবিনা বেগম পেছনের পথ দিয়ে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকতে যান। এই সুযোগে ফুল মিয়া ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন এবং কেউ যেন আগুন নেভাতে না পারে, সেজন্য বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের সব মালামাল ও গবাদিপশু পুড়ে শেষ হয়ে যায়।

ছেলের কঠিন শাস্তি দাবি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুবিনা বেগম বলেন, “ছেলে প্রতিদিন নেশা করে বাড়িতে এসে মারধর করত। আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। ফাঁসি দিতে না পারলে অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো এই ছেলে আমার বাকি চার ছেলে আর আমাদের মেরে ফেলবে।”

ক্ষতিগ্রস্ত বাবা আবু বক্কর জানান, “নিজের ছেলে যে এভাবে আমাদের নিঃস্ব করে দেবে, কখনো ভাবিনি। মাদকের জন্য সে প্রায়ই নির্যাতন করত। আজ আমাদের পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি বাবা হয়েও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করছি।”

অভিযুক্তের ছোট ভাই দিপু বলেন, “আমরা চার ভাই ঢাকায় কাজ করি। বড় ভাই প্রতিদিন বাবা-মাকে টাকার জন্য নির্যাতন করত। কাল রাতে আমাদের এক কাপড়ে পথে বসিয়ে দিল। আমরা এর বিচার চাই।”

ঘটনার পর পুলিশ ফুল মিয়াকে হেফাজতে নিয়েছে। আটক অবস্থায়ও তাকে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। নিজের অপরাধকে সমর্থন করে ফুল মিয়া বলেন, “ঘরে আমার অংশ আছে। পরিবারে গেলে আমার সাথে চিল্লাচিল্লি করত, বলত আমি কাজ করি না। তাই আগুন দিয়েছি।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মাদক শুধু একজন মানুষকে নষ্ট করে না, একটি পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। তারা অবিলম্বে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান এবং মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং