
আঠারবাড়ি থেকে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কের মাঝে ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজ সমাপ্ত হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সভার ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ১২ কিলোমিটার সড়কের সুফল পাচ্ছে না পরিবহণ সেক্টরসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। অবিলম্বে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন করে পৌর এলাকার ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী লাগাতার সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
রবিবার, ২০ এপ্রিল দুপুরেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আঠারবাড়ি থেকে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মোড় পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য ১শ ১৫কোটি ৫৯ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ২০২০ সালে তাহের এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। ২০২২ সালের জুন মাসে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদার যথা সময়ে কাজ শুরু করেন। ১২কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সড়ক ও জনপদ বিভাগ ২বার সময় বৃদ্ধি করে। কিন্তু অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঠিকাদার নিরুপায় হয়ে সড়কের কাজ না করার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগে আবেদন করেন। সড়ক বিভাগ তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এই ঠিকাদারের উপরই কার্যাদেশ বহাল রাখে। যে ৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ বাকী রয়েছে। সেটি উপজেলার ৫লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সড়ক পথ। রাস্তাটি বর্তমানে খানা খন্দে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় হাসপাতালে আগত রোগিরা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ রাস্তা দিয়ে ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ কেন্দুয়া নেত্রকোনা তাড়াইলের যানবাহন সহ জনসাধারণ চলাচল করে থাকে।
এ রাস্তায় সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা হাটুলিয়া পৌর এলাকার নয়শিমুল ধামদী কাকনহাটি সহ হাসপাতাল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পর্যন্ত সড়কে খানা খন্দ আর বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে রাস্তাটি।
ঈশ্বরগঞ্জ পরিবহণ শ্রমিক সমিতির সদস্য মফিজ উদ্দিন জানান, খানা খন্দের কারণে গাড়ি নষ্টের পাশাপাশি প্রতি নিয়ত এই বেহাল রাস্তায় ঘটছে দূর্ঘটনা।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম হারুন অর রশিদ বলেন, এটি হাসপাতাল সড়ক। এমন দুরাবস্থা দেশে আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। প্রতিদিন মূমুর্ষু রোগি অন্তঃসত্তা নারীদের হাসপাতালে যাতায়াতে যে কি দূর্ভোগ হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। তিনি দ্রুত সময়ের মাঝে ভূমি জটিলতা নিরসন করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস ছালাম বলেন, সড়কটির দুই পাশের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনের জন্য চলতি মাসের ৮ তারিখে ১শ ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন পাস হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ খাতে জমা হয়েছে। বাকি ১৪ কোটি টাকা প্রাক্কলন পাসের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাক্কলন পাস হয়ে এলে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনের জন্য নোটিশ করা হবে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
Leave a Reply