
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে আবারও ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই এবং এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মাঝে।
শুক্রবার, ২ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুর রাজগোপাট সড়কে স্থানীয় উত্তর লক্ষ্মীপুর নজের বাড়ী গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে রিমন মিয়া (২৫) ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে তাঁর নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় নির্জন রাস্তায় একটি সশস্ত্র ছিনতাইকারীর দল তাঁর গতিরোধ করে। ছিনতাইকারীরা রিমনের চোখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাঁর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইসরাতুল জান্নাত কওমি মহিলা মাদ্রাসার কাছে এক যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন। উপজেলার আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে মাদ্রাসা সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর একটি দল সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তার গতি রোধ করে। চালক মোটরসাইকেলটি থামানোর চেষ্টা করতেই ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং মোটরসাইকেলটি নিয়ে চম্পট দেয়।
খবর পেয়ে সড়কে টহলরত কুলিয়ারচর থানার এসআই মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই চালককে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। ওই অবস্থায় তার নাম ঠিকানা জানা না গেলেও প্রাথমিক ভাবে জানাযায়, ওই চালকের বাড়ি শেরপুর। তিনি ভৈরবে ব্র্যাক অফিসে চাকুরী করেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই কুলিয়ারচরের নোয়াগাঁও-আগরপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে রাতের বেলায় ধারাবাহিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে আসছে। একই সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহনে ব্যারিকেড দিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কে রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে চালক ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এ দুটি ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনাগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলেতদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply