1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

পাকুন্দিয়ায় পুলেরঘাটে  অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া আর মাদকের নেশায় ধ্বংস হচ্ছে উঠতি বয়সী যুব সমাজ

এম এ হান্নান, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার  পুলেরঘাট উপশহরের অনলাইন জুয়ায় সর্বস্বান্ত হচ্ছে উঠতি বয়সী তরুণরা। এতে যেমন তাদের পড়াশোনা বা কাজের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা নিজেরা এবং তাদের পরিবার। শুধু শহরেই নয় গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষও বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এসব জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। খোয়াচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা। জুয়ার কবলে পড়ে অনেকে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়ছেন।

মোবাইলে ফেসবুক চালু করলেই স্কিনে ভেসে উঠছে একাধিক অনলাইন জুয়ার পেজ। ফেসবুক আইডি, পেজ, গ্রুপ, ওয়েবসাইট ও মোবাইলভিত্তিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ দিয়ে চলছে এই জুয়ার সাইটগুলো। এতদিন বিদেশি আয়োজনে এসব জুয়ার সাইট চললেও এখন দেশিয় অনেক প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই মারাম্তক জুয়ার বিভিন্ন সাইটের মধ্যে Blackjack, Roulette, Pocker, Baccarat, keno, Craps, Sic bo, Video poker, Slotomania,Teen patti, 1xbet, 22bet, most bet, 888 casino, Betwinner, GGbet, Loft.Casino,1WIN, William Hill, Leo Vegas Casino অন্যতম।

এই ভয়াল অনলাইন জুয়ার নেশায় ধ্বংস হচ্ছে উঠতি বয়সী যুব সমাজ, পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকদের লেখাপড়া। অনেকে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বেছে নিচ্ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো মারাত্বক অপরাধের পথ, ফলে সমাজে বিরাজ করছে এক ধরনের অস্থিরতা। টাকা পয়সা অনলাইন জুয়ায় নষ্ট করে পারিবারিকভাবে অশান্তিতে ভুগছে অনেকেই। বাড়ছে পারিবারিক কলহ। চরমভাবে বিপদগামী হচ্ছে তারা এই সর্বনাশা জুয়ার টাকার জোগাড় করতে।

জুয়ার অন্ধকার জগতে কীভাবে ঝুঁকছে তরুণরা? জানতে এই প্রতিবেদক কথা বলেছে আসক্ত এক তরুণের সঙ্গে। পরিচয় গোপন করার শর্তে সেই যুবক জানিয়েছেন কালো দুনিয়ার কার্যক্রম। তিনি বলেন, “আড্ডার ছলে শুরু, তারপর লোভ, লোভ থেকে নেশা, সেখান থেকে নিঃস্ব। জুয়ার কালো দুনিয়ার ভয়ংকর সব ফাঁদ পাতা অনলাইনে। যেখানে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হাজারো পরিবার। ফিরে আসার পথ যেন পেন্ডুলাম বক্স! কর্মক্ষেত্রে দুইদিন কাজ করলে যে টাকা পারিশ্রমিক  পাওয়া যায়, বাজি ধরলে তা এক সেকেন্ডেই চলে আসে। এ জন্য এর  প্রতি লোভও তৈরি হয়। অনেকে এভাবে জুয়ায় জড়িয়ে যায়। প্রথম দিকে লাভ হলেও শেষ দিকে লোকসান হয়।”

রাষ্ট্রীয়ভাবে এই জুয়া বন্ধ না করতে পারলে অচিরেই ধ্বংস হবে উঠতি বয়সী যুবসমাজের লেখাপড়া, ফলে তাদের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। এই অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন সচেতন মহল।

বিষয়টি সরকারেরে ঊর্ধতন মহলসহ প্রশাসনের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচেতন মহল।

 এ প্রসঙ্গে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন  পুলিশের অনেকগুলো সাইবার টিম রয়েছে যারা এ বিষয়ে কাজ করছে। মাঝে মাঝেই জড়িতদের আটক করা হচ্ছে।  বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো।  এলাকাবাসী জানান মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় উচ্চস্বরে দম্ভ করে বলে বেড়ায়, পুলিশ  যখন কিছু করতে পারেনি! তখন আর কে আছে এই এলাকায় আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে! আমরা কাউকে পরোয়া করি না! তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্রও মজুত আছে বলে জানা গেছে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে প্রকাশ্যে তাদের দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে এবং খুন-জখমের চেষ্টা চালায় এবং হুমকি প্রদান করেন এসব মাদক ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার আদর্শ পাড়া এলাকার মৃত আ. হেলিমের ছেলে মো. সম্রাট । তিনি  তার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে পুলেরঘাট গরুর হাটের  থেকে নদীরপাড় গিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকার মৃত আ, হাসিমের ছেলে মোঃ আদিল মাদক সেবন ও জুয়া খেলায় জড়িত বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে তাকে বাবার সংসার থেকে আলাদা করে দেয়া হয়েছে বলেও এলাকাবাসী জানায়। পুলেরঘাট পুলেরঘাট বাজারের উত্তর পাশের হোমিও ডা. সুদর্শনের ছেলে শুভ  অনলাইন জুয়ায় লিপ্ত।  পুলেরঘাট উপশহরের ষাইট কাহন এলাকার মৃত ফরিদের ছেলে বিপুল। তিনিও মাদক ও অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত।

এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আগমন ঘটলে আদিলও সম্রাটের  কাছে অলৌকিকভাবে খবর পৌঁছে যেতো। আওয়ামী লীগের আমলে নেতাদের  ছত্রছায়ায় এদের দু’জনের বিরুদ্ধে জুয়ার সংগঠক জুয়া আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে। এদের  আত্মীয়তার সুবাদে মাদক ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যেতো বলে জানা গেছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা আওয়ামীলীগ আমলে এ দু’জনের সাথে আঁতাত করে মাদক ব্যবসা চালিয়েছেন। বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীরা সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এদের বিরুদ্ধে আইনী কোনো ব্যবস্থা  না নিলে এলাকার যুবক-যুবতিদের মাদকের ছোবল থেকে বাঁচানো যাবে না। এদের বিরুদ্ধে অতিসত্ত্বর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে তারা দাবি করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং