
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর নতুন ডিলার নীতিমালাকে স্বৈরাচারী, অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের টিসিবি ডিলাররা। একই সঙ্গে পূর্বের সকল ডিলারকে বহাল রেখে নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই দুপুরে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টিসিবি ডিলার আসরাফুল আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নতুন নীতিমালায় ডিলারদের নবায়ন প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করে আবেদননির্ভর করা হয়েছে। এর ফলে আবেদন, তদন্তসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিলারদের হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালে যাদের ডিলারশিপ নবায়নের কথা ছিল তাদের মধ্যে কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পেরেছেন এমন ব্যক্তিদের নবায়ন করা হলেও অন্যদের নবায়ন বাতিল করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত নীতিমালায় ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে নবায়নযোগ্য ডিলারদের সরাসরি বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের নবায়নের সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ ২০২৫ ও ২০২৬ সালের নবায়নযোগ্য ডিলাররা একই নীতিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাই ২০২৬ সালের ডিলারদের নবায়নের সুযোগ না দেয়া সুস্পষ্ট বৈষম্য বলে দাবি করেন তিনি।
আসরাফুল আলম অভিযোগ করেন, বিদ্যমান ডিলারদের বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যা নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই আগ্রহী আবেদনকারীরা নিয়োগের আশায় বিভিন্নভাবে তদবির ও দরকষাকষি করছেন। এমনকি অনেকেই জমিজমা বন্ধক রেখে নিয়োগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার প্রতিটি টিসিবি কার্ডধারী ভোক্তার জন্য গড়ে প্রায় ৩০০ টাকা ভর্তুকি দেয়। এ ভর্তুকির পরিমাণ অর্ধেকে নামালে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় ছাড়াই আরও প্রায় এক কোটি নতুন ভোক্তাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বর্তমান ডিলারদের বহাল রেখেই আরও আট থেকে ১০ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিসিবি ডিলার মিনহাজুল আবেদীন, কামরুল ইসলাম, আলী আসকর, ওয়ালীদুল ইসলাম, মোকারম হোসেন, এরফানুল ইসলাম, কামরুজ্জামান তুফেল, তমিজ উদ্দিন ভূঞা, মাজহারুল হক জমসেদ, মাসুদ ও ফারুক।
Leave a Reply