1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

উবায়দুল্লাহ রুমি, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নিতে এসে গত বছরের ১২ নভেম্বর হামলার শিকার হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হন এনসিপির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক মোজাম্মেল হক।

ঘটনার পর থেকে টানা তিন মাস ধরে প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের উদ্যোগে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বাদি হয়ে এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক (৩১)কে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনায় পরবর্তীতে থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে এটি রুজু করা হয়।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক বাদি হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড শাকিল (৩৮) কে প্রধান আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে এনসিপির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পায় না। পায় শুধু হয়রানি আর শোষণ। রোগিদের জোর করে দালালের মাধ্যমে নামসর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ওষুধ ও দামি ইনজেকশন বাইরে বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগির স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা কি এমন বাংলাদেশই চেয়েছিলাম? হাসপাতালের দালালচক্র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে আমার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়। আজও আমি চিকিৎসাধীন। হাতে অপারেশন করে রড বসানো হয়েছে, এখনো প্লাস্টার খোলা হয়নি। আমার একাধিক সহযোদ্ধাকেও গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে।
মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে এক নম্বর আসামি করে মামলা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নাম বাদ দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। উল্টো ভুক্তভোগী হয়েও তাকেই প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাহলে কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে লাঠির আঘাত, হাত ভাঙা আর মিথ্যা মামলা উপহার হিসেবে পাওয়া যায়? তবুও আমরা ভয় পাই না। আপোষ করব না, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপরদিকে আরএমও সুমাইয়া হোসেন লিয়া কল কেটে দেন।
তবে হাসপাতালের একাধিক সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন হাসপাতালের গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে বলপ্রয়োগ, সন্ত্রাসী হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং রোগিদের সেবা প্রদানে বিঘ্ন সৃষ্টি করার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মামলাটি দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং