1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

সরকারি জমিতে অবৈধ বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করেও সরকারি বাড়ি ভাড়া উত্তোলন ও নীরব প্রশাসন

নূর আহম্মদ পলাশ।।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩৩ বার পড়া হয়েছে
অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো, শাহিদুল ইসলাম

 

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় কর্মরত এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে বাসা নির্মাণ জমিতে বাড়ি নির্মাণ, ব্যবহার ও সরকারি ভাতা উত্তোলন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, যিনি এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, কিশোরগঞ্জে দীর্ঘ সময় চাকরিরত ছিলেন।

বরাদ্দকৃত বাসা থেকে বিতর্কিত স্থাপনা

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে চাকরির সুবাদে তিনি একটি সরকারি বাসভবন বরাদ্দ পান। কিছু বছর পর ওই বাসভবন পরিত্যক্ত হিসেবে দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর বরাদ্দকৃত বাসার পাশের সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয় এবং সেখানেই পরিবারসহ বসবাস শুরু করা হয়।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ আইনসম্মত নয়। তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই স্থাপনাতেই অবস্থান করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। সেইসাথে বাড়ি ভাড়ার হিসেবে ভাতাও উত্তোলন করছেন তিনি।

বদলির পরও পুরোনো বাসভবনে বসবাস

অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করলে পূর্বের কর্মস্থলের সরকারি বাসভবন ত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, বদলির পরও ওই বাসভবন বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটি ব্যবহার অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বাড়ি ভাড়া উত্তোলনের দাবি

অভিযোগকারীরা জানান, বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ১২ হাজার ৭১২ টাকা করে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি বলেও তারা দাবি করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো লিখিত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।

সরেজমিনে কী দেখা গেল?

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমানে ওই স্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার পরিবারসহ বসবাস করছেন। স্থানীয়দের মতে, সরকারি জমিতে নির্মিত স্থাপনাটি বহু বছর ধরেই ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের মুখে

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কিশোরগঞ্জ মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনমনে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি সম্পত্তি ও অর্থ সংক্রান্ত এমন অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত হওয়া জরুরি। তাদের প্রশ্ন দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে অভিযোগ থাকার পরও কেন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হবে এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং