
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা নরসুন্দা নদীর অবৈধ দখল মুক্তকরণ, দূষণরোধ, পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ও নরসুন্দা নদীর উৎসমুখ কাউনার বাঁধ খুলে দেয়াসহ জেলার ছোটবড় ৪৩ টি নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও পথসভা কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
শনিবার, ১৪ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে জেলা শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বরে (পরম চত্ত্বর) বাপার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগমের সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মানববন্ধন ও পথসভায় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধন ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ন সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার হোসেন, মীর জাহান ভুঁইয়া মিজু, বাপার কোষাধ্যক্ষ লুৎফুল কবীর, পরিবেশকর্মী মো. রুহুল আমিন, বিন ইয়ামিন, সাংবাদিক মনজুরুল হক, শিক্ষক নেতা কামাল উদ্দিন, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিয়া বেগম, বাংলাদেশ বেতারের কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক মাজহার মান্না, নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দিন, নিসচা এর সাধারণ সম্পাদক মো.ফারুকুজ্জামান, পরিবেশ কর্মী কামরুল হাসান বাদল ,নারীনেত্রী চন্দ্রা সরকার, ও শাহ মাতাব প্রমুখ। এছাড়াও ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন সহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সকল বক্তা ও
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবি উত্থাপন করা হয় :
১। অবিলম্বে নরসুন্দা নদীর উৎস মুখের কাউনার বাঁধের স্লুইস গেট অপসারণ এবং মূল ব্রহ্মপুত্র থেকে খাল কেটে নরসুন্দার উৎস মুখে সংযোগ করে দিতে হবে
২।সিএস মূলে সীমানা নির্ধারণ করে সঠিক সীমানা পিলার স্থাপন করতে হবে,এবং সকল অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ ও উচ্ছেদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩। নদীতে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ফেলা বন্ধ করে আধুনিক বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা গড়ে তোলতে হবে এবং এখনো যারা ময়লা আবর্জনা ফেলে নরসুন্দাকে দূষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
৪। আংশিক নয় সম্পূর্ণ নরসুন্দা নিয়মিত খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নৌ-পথ চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে
৫। প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত লেক সিটির নামে নদী দখলের অপচেষ্টা বন্ধ; পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এমন অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ ও প্রয়োজনে তা অপসারণ করতে হবে এবং ইতিপূর্বে নরসুন্দা নদীর খনন-কাজে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনতে হবে
৬। নরসুন্দা নদী উদ্ধার করে নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণ, হাঁটার পথ নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও ‘নান্দনিক কিশোরগঞ্জ’ গঠনে একটি মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে।
৭। শহরের সকল পুকুর দীঘি,জলাধার, মাঠ-পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান দখলমুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে
৮। যানজট নিরসনকল্পে পাগলা মসজিদ থেকে জেলা পরিষদ এবং সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত নরসুন্দায় নৌপথ অবিলম্বে চালু করতে হবে
৯। নরসুন্দা নদীর সাথে সংযুক্ত খাল-বিল ও জলাধার গুলোকে খনন ও সংস্কার করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে
১০। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, নদী কর্মী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ‘নরসুন্দা নদী রক্ষা তদারকি কমিটি’ গঠন করতে হবে।
নরসুন্দা নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি কিশোরগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনের অংশ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য সুনির্মল পৃথিবী বিনির্মাণে এই নদীকে রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
মানববন্থন থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।
Leave a Reply