
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীরা গত ২৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৪ অগাস্ট উপজেলা প্রশাসন উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আশরাফুল খালেক আলমগীরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। তদন্ত কমিটি গত ১৩ অগাস্ট সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে ২৭ অগাস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ যথাসময়ে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখাসহ বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা জমা দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর গত ১৮ অগাস্ট ৯০ হাজার টাকা এবং ১৯ অগাস্ট ১ লাখ ৭ হাজার টাকা জমা দেয়া হয়। অর্থাৎ দুই দিনে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা হয়।
তদন্তে বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথিপত্রেও বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্যাশ রেজিস্টার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও তা একক স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া চেক ইস্যু রেজিস্টারও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তদন্ত কমিটির তথ্যমতে, ২৩ জুন ২০২৩ সালের পর ওই রেজিস্টারে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকের একক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠে এসেছে। বিভিন্ন ব্যয় যথাযথ কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করার নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের তিনটি টিনশেড ঘর ও একটি পাকা ভবন ভেঙে মালামাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি আমি হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply