1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যে মুখর কটিয়াদীর ঢাকের হাট

নূর আহাম্মদ পলাশ, চিফ রিপোর্টার।।
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে শত শত বছরের ঐতিহ্য ধরে আজও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, করতাল, সানাই ও বাঁশির সুরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে কটিয়াদী পৌর এলাকার পুরাতন বাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা নিজেদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন। তাদের পরিবেশনা শুনে দুর্গাপূজার জন্য পছন্দের দল বুকিং দিচ্ছেন পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা।

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, ষোড়শ শতকে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় চৌধুরীর দুর্গাপূজার আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই হাটের সূচনা। কথিত আছে, রাজপ্রাসাদে পূজার অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর জন্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকি ও বাদকদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। তাদের বাদ্য পরিবেশনা শুনে পছন্দের দল নির্বাচন করা হতো। কালক্রমে সেই আয়োজনই রূপ নেয় ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটে।

নাম ঢাকের হাট হলেও এখানে মূলত বাদ্যযন্ত্র কেনাবেচা হয় না। দুর্গাপূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে বাদ্য পরিবেশনের জন্য ঢাকি ও বাদক দলগুলোর সঙ্গে পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে চুক্তি করেন আয়োজকেরা। মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিল্পীরা নিজেদের দক্ষতা ও পরিবেশনার মাধ্যমে পূজা উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন।

ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট পরিদর্শন করে এর উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন। তিনি বলেন, কটিয়াদীর এই ঢাকের হাট পাঁচ শতাধিক বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। দুর্গাপূজায় ঢাক-ঢোলের গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাদকদের কাছে এ হাটের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

পরিদর্শনকালে তিনি জানান, হাটে আসা ঢাকিদের অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগার, চলাচলের রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার দাবি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শৌচাগার নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাটের রাস্তা সোলিং করা এবং একটি সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি। এসব সুবিধা বাস্তবায়িত হলে আগামী বছর থেকে ঢাকি ও বাদকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কটিয়াদীর ঢাকের হাটের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এখানে আসা শিল্পীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও উদ্যোগ নেয়া হবে।

ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে সম্প্রীতির সুর

দুর্গাপূজার অন্যতম অনুষঙ্গ ঢাকের বাদ্য। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ঢাকের ছন্দ উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের বিস্তার ঘটলেও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের আবেদন এখনো অমলিন।

কটিয়াদীর ঢাকের হাট তাই কেবল বাদকদের চুক্তি করার স্থান নয়; এটি লোকজ সংস্কৃতি, পেশাগত ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহন করছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী এই হাট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও তার স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতে পারবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং