1. admin@bdchannel4.com : 𝐁𝐃 𝐂𝐡𝐚𝐧𝐧𝐞𝐥 𝟒 :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

কুলিয়ারচরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, স্টাফ রিপোর্টার, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

 

নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এরই অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার যেসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা তুলে ধরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতে প্রেস কনফারেন্সের করেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার, ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমাজসেবা অফিস  আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ।

এসময় তিনি বলেন, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে (জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে) দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪ টি জেলার ৫৫ টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪ টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮৬.৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫.৭৩ কোটি টাকা যার মধ্যে ৫৭.২০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

জুলাই, ২০২৬ হতে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০.০০ (চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২,৩০০.০০ (বারো হাজার তিনশত) কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবার-কে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ৫টি কোয়াইন্টালে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে শুধু ১ম, ২য় এবং ৩য় কোয়াইন্টালভুক্ত (নিম্ন স্কোর প্রাপ্ত পরিবার) নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন।

আজ ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে সকল এলাকার খানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১  সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীগণকে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মীগণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের  মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবে। এটি কার্যকরভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, Network Based Cyber Security, Work Force Management, Network Operation Center (NOC) room স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি ৫ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে ইনপুট প্রদান করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী  ৩ অর্থবছরে যোগ্য সকল নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার  আওতায় আনা হবে। উপকারভোগীগণকে প্রদেয় ফ্যামিলি কার্ডটি Dual Chip, QR Code Near Field Communication (NFC) সুবিধা সম্বলিত যা সরকারের TakaPay পেমেন্ট স্কীমের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীগণ ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি বিতানের Point of Sales (POS) এবং Mobile Financial Services (MFS) থেকে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

এসময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবা সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) এ.এইচ.এম ইজাজুল হক সহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীগণ। প্রেস কনফারেন্সের শেষে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের মাঝে ট্যাবলেট ডিভাইস বিতরণ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং