
ময়মনসিংহের নান্দাইলে গত ৯ মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছে ১৫ বছরের কিশোর মো. ইয়াসিন মিয়া। নিখোঁজের ২২ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি পুলিশ। সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগের পরও উদ্ধার তৎপরতায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিদহী কোনাঘাটা গ্রামের কৃষক মো. হারুন মিয়ার ছেলে ইয়াসিন মিয়া গত ৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর কিশোরের বাবা ১১ মার্চ জিডির আবেদন করলে নান্দাইল মডেল থানায় ১৬ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৫০) এন্ট্রি করেন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে পরবর্তীতে অপহরণের অভিযোগ এনে তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত আবেদন জানানো হয়। লিখিত অভিযোগপত্রে জিহাদ মিয়া (২১), ফয়সাল মিয়া (৩৫) ও সেলিম মিয়া (২৩) কে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নিখোঁজ কিশোরের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। পরিবারের দাবি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের পলায়ন করার তথ্য থাকার পরও কেন পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে বা গ্রেফতার করতে পারছে না?
নিখোঁজ কিশোরের বাবা হারুন মিয়া বলেন, আমার ছেলের মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ। পুলিশকে সব জানিয়েছি, কিন্তু তারা শুধু সময় নিচ্ছেন। ২২টা দিন হয়ে গেল, আমার ছেলেটা বেঁচে আছে কি না তাও জানি না। পুলিশ প্রশাসনের এই ধীরগতি আমাদের মনে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘তদন্ত চলছে’ এমন গৎবাঁধা বুলির বাইরে আর কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সাধারণত কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় প্রশাসনের যে ধরনের তৎপরতা থাকার কথা, এখানে তার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি অভিযুক্তদের বাড়িঘরে কোনো অভিযান চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা অসহায় কৃষক পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিশোর ইয়াসিন মিয়াকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে আচারগাঁও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক দেবলাল সরকার জানান, নিখোঁজ কিশোরকে খুঁজে বের করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বাড়িতেও গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত তিনজনের বাড়িতে নিখোঁজ ইয়াসিনের বিষয়ে খোঁজ নিতে যাওয়ার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে র্যাব ও পিবিআই যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াসিনকে খুঁজে পেতে আমাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply