
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার দুইজন হলেন, কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর সমিউল্লাহ পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. সোহরাব হোসেন (৩৮) ও ভাটি জগৎচর গ্রামের মৃত ইদ্রিস ভূঁইয়ার ছেলে আওয়ামী লীগ সমর্থীত মো. লুৎফর রহমান (৫৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর শান্তি মোড় এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলে অংশ নেয়া কয়েকজনকে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এই মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে গত ১৪ অক্টোবর রাতে কুলিয়ারচর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কুলিয়ারচর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সংহতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্ররোচনা সৃষ্টি করেছেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান শুরু করে। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর একই মামলায় কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছেন।
মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. সোহরাব হোসেন ও লুৎফর রহমানকে দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তাদের নাম না থাকলেও তদন্তে তাদেরকে সন্দিগ্ধ আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ জানায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply