ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষকের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে পূর্বানুমতি বা ছুটি ছাড়াই শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগের ঘটনায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর বেলা ২টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীশূন্য। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১০ জন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা ছুটিসংক্রান্ত লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারেন না। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনাও রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের পর শিক্ষার মান ও পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকদের এমন দায়িত্বহীনতায় পরিস্থিতি উল্টো দিকে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান না করে শিক্ষকদের চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পরিবর্তে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারমুখী হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষক নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহে অবস্থান করছেন। নয়জন সহকারী শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ে এসে দুপুর পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠদান করেছেন। পরে নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিদ্যালয় ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে এ বিষয়ে অনুপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষকদের এ ধরনের অনুপস্থিতি সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে কোনো ছুটি নেননি। সহকারী শিক্ষকেরা ছুটির আবেদন ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ করে থাকলে তা সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।