ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্ব শত্রুতার জেরে ফিশারীতে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৯ লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর বিকালে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের গজারিয়া বিলে ভুক্তভোগী মৎস্যচাষী মো. দুলাল মিয়ার ভাড়া নেয়া ফিশারীতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে গজারিয়া বিলে বিভিন্ন লোকজনের ছয় একর জমির মালিকানাধীন ফিশারী ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন একই ইউনিয়নের ভাটিসাভার গ্রামের মো. দুলাল মিয়া। কিন্তু ফিশারীতে অংশীদার হওয়ার দাবিতে রাজি না হওয়ায় গত বুধবার রাতে অভিযুক্তরা ফিশারীর পানিতে কীটনাশক ঢেলে দেয়। এতে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ৮০ মন মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে, যার আনুমানিক মুল্য ৯ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ওই মৎস্যচাষী বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মানিক মিয়া জানান, তিনি ফিশারী পাহারা দেয়ার সময় টর্চলাইটের আলোতে দেখতে পান, অভিযুক্ত আল আমিন, শহিদ মিয়া, হবি মিয়া ও জালান উদ্দিন গং বোতলে করে বিষাক্ত কীটনাশক পানিতে ছিটিয়ে দিচ্ছেন। তখন মানিক মিয়ার ডাক চিৎকারে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এছাড়া ডিজেল চালিত একটি ইঞ্জিন অভিযুক্তরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ভূক্তভোগী দুলাল মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে অভিযুক্তরা ওই ফিশারীতে শরীক হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমি এর সুষ্টু বিচার চাই।
অপরদিকে অভিযুক্ত শহিদ মিয়া বিষ প্রয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ফিশারীর পানির গুণগত মান নষ্ট হয়ে বা পচে যাওয়ার কারণে মাছ মরে ভেসে উঠতে পারে। অহেতুক তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।