কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডিত ইসমাইল সাগর মিয়া বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে।
নিহত ঝর্ণা আক্তার বাজিতপুর উপজেলার নয়াহাটি গ্রামের মৃত তোফাচাঁদের মেয়ে।
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার নয়াহাটি গ্রামের মৃত তোফাচাঁদের মেয়ে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইলের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঝর্ণা আক্তার তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুরে মায়ের বাড়ি নিলখী নয়াহাটে চলে আসেন। সেখানে গিয়ে তিনি তার মাকে স্বামীর নির্যাতনের বিষয়টি জানান।
এর পরদিন ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে ইসমাইল কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণা আক্তারের বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঝর্ণা আক্তার মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ইসমাইল সাগর মিয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহত ঝর্ণা আক্তারের মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদি হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।