বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে চাকুরি ও যুব উদ্যোক্তা মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিওয়াইডি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউসেফ বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতায় আয়োজিত মেলায় চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
মেলায় মোট ২৫টি স্টল বসানো হয়। এসব স্টলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন। ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধনের পর তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক এবং ইউসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ও ইনোভেশন বিভাগের উপ-পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জয় প্রকাশ বড়ুয়া। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম শামীম। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য ও অতিথিদের বক্তব্য শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করা হয়।
মেলায় অংশ নেয়া যুব উদ্যোক্তা সুমন জানান, করোনা মহামারির সময় তিনি বেকার হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যে ছোট বোনের কাছ থেকে তিনটি পাঞ্জাবি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসায় সাড়া পান। একদিনে ১০০টি পাঞ্জাবি বিক্রি করার পর ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইনে পাঞ্জাবি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান তিনি।
নারী উদ্যোক্তা সুমি বলেন, তার সংগঠনটি ইউসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিচালিত। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নারী-পুরুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এবারের মেলায় তাদের সংগঠনের মাধ্যমে ২০ জন বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া ব্যক্তিরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মেলায় স্টল দিয়েছেন।
মেলায় অংশ নেন বাক্প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা গোলসান আরাও। তিনি নিজের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে স্টল বসিয়ে সেগুলো বিক্রি করেন। তার মতো উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ মেলায় কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার বার্তাকে আরও গুরুত্ববহ করে তোলে।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।