রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার শাখার অধীনে উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের শেয়ালধরা বাজারস্থ অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া রসিদ প্রদান ও গোপন চক্রান্তে সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে প্রবাসীদের পরিবারসহ সাধারণ গ্রাহকরা এখন দিশেহারা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে শেয়ালধরা বাজারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ১৬ জন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও এলাকাবাসী এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরে জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, এজেন্ট পরিচালক মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিজান এবং ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম সোহেল ভুয়া জমা রসিদ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মূল ব্যাংক থেকে আউটলেট বন্ধের নোটিশ দেয়ার পরও তা গোপন রেখে অবৈধ লেনদেন চালানো হয় এবং গ্রাহকদের মূল অ্যাকাউন্টের অর্থও হাতিয়ে নেয়া হয়। জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীদের উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মোছা. শামসুন্নাহারের ৪৪ লাখ ৮০ হাজার, জাহাঙ্গীর আলমের ১২ লাখ, আবুল কালামের ২৫ লাখ ও পারুল আক্তারের ২৪ লাখ টাকাসহ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পরিচালক মিজান জানান, ম্যানেজার সোহেল টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছে এবং তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের ডেকে পাঠানো হলেও তারা আসেনি। বিষয়টি ব্যাংকিং সংক্রান্ত হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংক কালীগঞ্জ বাজার শাখার কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান নিশ্চিত করেন যে, গত ২১ জুনের সার্কুলার অনুযায়ী এজেন্ট আউটলেটটি বন্ধ করে নোটিশ টাঙানো হয়েছিল। এছাড়া এজেন্ট শাখায় সঞ্চয়পত্র হিসাব খোলার কোন সুযোগ নেই। এতে মূল ব্যাংকের কোনো যোগসাজশ ছিল না।