কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাছবাহী ট্রাক থেকে মালামাল চুরি ঠেকতে গিয়ে দুই যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ এক মাস তদন্তের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশি অস্ত্র ও মাছ চুরিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার তিনজন হলেন—নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার চন্দ্রপুর মাঝপাড়া গ্রামের মো: আজাদুল ইসলাম (২০), মো: সৌরভ (১৯) এবং একই উপজেলার ডুবারপাড়া গ্রামের সরজিৎ কুমার (২৭)।
চলতি বছরের গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হোসেনপুর থানাধীন ডাহোরা তালিমুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে পাকা রাস্তার পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ এবং অপর একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, সদর সার্কেল অফিসারসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খালিদ শেখ জানান, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ৯ জুন দিবাগত রাত সোয়া ৩টার সময় হোসেনপুর-গফরগাঁও ব্রিজের পাশে মাছবাহী একটি ট্রাকের ওপর তিন চোর (আসিফ, রনি ও ইউসুফ) উঠে মাছ চুরি করছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আসামি আজাদুল ও সৌরভ লোহার পাইপ, হ্যান্ডেল, হুইল রেঞ্জ ও লিভার নিয়ে ট্রাকের ওপর চড়াও হয়। সেখানে আসিফ ও রনিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তার ওপর ফেলে দেয় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ফেলে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১০ জুলাই সকাল ৭টার দিকে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরুদাসপুরের চন্দ্রপুর বীরবাজার এলাকা থেকে মাছ চুরিতে ব্যবহৃত মাঝারি সাইজের একটি EICHER ট্রাক (রেজি নং- ঢাকা মেট্রো ১২-৬৭৬১) জব্দ করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, লিভার ও হ্যান্ডেলও উদ্ধার করে পুলিশ।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানায়, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।