মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মৎস্যচাষীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে এ উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার নির্বাচিত উপকারভোগী মৎস্যচাষীদের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্যচাষীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুকুর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আধুনিক ও লাভজনক মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়।
বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে ছিল মাছের উন্নতমানের মানসম্মত খাবার, পুকুরের পানির গুণগত মান রক্ষায় ব্যবহৃত চুন, বিভিন্ন ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ এবং আধুনিক মাছ চাষে প্রয়োজনীয় নানা আনুষঙ্গিক সামগ্রী। পাশাপাশি উপজেলার আদর্শ প্রদর্শনী মৎস্য খামারগুলোকে পরিচিত ও দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট চাষিদের নাম-সংবলিত দিকনির্দেশনামূলক অফিসিয়াল সাইনবোর্ডও প্রদান করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারের এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক ও মাঝারি পর্যায়ের মৎস্যচাষীরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহারও সহজ হচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং মৎস্যচাষীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মায়মুনা জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসান কিবরিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিনির্ভর জনপদ ঈশ্বরগঞ্জে মৎস্য খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ উপজেলার মৎস্যচাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। তারা বলেন, পুকুর ও জলাশয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা গেলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি চাষিদের আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় উপকারভোগী মৎস্যচাষীরা সরকারের এ সহায়তা কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাছের খাবার, চুন ও অন্যান্য উপকরণ সরাসরি হাতে পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং মাছ চাষে আরও উৎসাহ তৈরি হবে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।