জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন। সেখানে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাঁধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতঘর, গাছপালা ও আবাদি জমি। ভাঙনের কারণে বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে।
এছাড়া বেলগাছা, সাপধরী, গুঠাইল, উলিয়া ও মন্নিয়ার চর এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প।
নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি বাঁধটি ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙনের গতি বেড়েছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, সরকারি বাঁধ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান জানান,যমুনা চর বিশাল একটি জায়গা। এখানে অল্প ডাম্পিংয়ে ভাঙন প্রতিরোধ হবেনা। বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সমীক্ষা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবো।