কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় পুলেরঘাট উপশহরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শুক্রবার, ১৯ জুন রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া পুলেরঘাট উপশহরের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মানিক মিয়া (৩৫)। তিনি পার্শ্ববর্তী টিককইল গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মানিককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং উত্তম-মধ্যম দেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তকে পুনরায় মারধর করার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আসামিকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জনতার মাঝে আটকা পড়েন এবং মারধরের শিকার হন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ এসআই আমিনুল ইসলামকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত মানিক মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।