কিশোরগঞ্জে কাঁঠাল খাওয়া নিয়ে ঝগড়ায় ছেলের হাতে বাবা খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার, ১৬ জুন সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৭০) মূলত সদর উপজেলার বড় খাপন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে কয়েক বছর আগে তিনি চৌধুরীহাটি গ্রামে একটি বাড়ি কিনে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি পাকা কাঁঠাল খাওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুর রাজ্জাক ও তার বড় ছেলে মো. আলমের (৩৫) মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবার গলা চেপে ধরেন। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে আলমের আক্রমণের কারণেই আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সময় নিহতের গাল ও কানে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার পরপরই আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগম বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
নিহতের স্বজনরা জানান, আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে আলম বিবাহিত এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আলম ও তার স্ত্রী রেখা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।