আসন্ন ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জুন। মাঠে খেলা গড়ানোর আগেই বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এরই প্রভাব পড়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বাজারগুলোতে। প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় স্পোর্টস শপ ও ফুটপাতের অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্রগুলো।
মঙ্গলবার, ৯ জুন করিমগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সি বিক্রির ধুম পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি সংগ্রহ করছেন। বরাবরের মতো মাঠের বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবারও এগিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কেউ নিজের জন্য, কেউ আবার সন্তানের জন্য জার্সি কিনছেন।
আর্জেন্টিনার সমর্থক হোমিও চিকিৎসক ও প্রকৌশলী উৎপল কুমার পাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ম্যারাডোনার নাম শুনে বড় হয়েছি। মেসির খেলা আমাকে মুগ্ধ করে। এবারও আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি, বাসায় পতাকাও টানিয়েছি। আশা করি, শিরোপা আবারও আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে।’
ব্রাজিলের সমর্থকেরাও পিছিয়ে নেই। ছেলেদের জন্য জার্সি কিনতে আসা সানরাইজ আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার মিঠু বলেন, ‘আগের মতো খেলা বিশ্লেষণ করার সময় হয় না। তবে নেইমারের খেলার দক্ষতা আমার ভালো লাগে। আমার দুই ছেলেও ব্রাজিলের সমর্থক। তাই চাই, কাপটা ব্রাজিলের হাতেই উঠুক।’
চিরাচরিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের বাইরে এবার পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সির প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ঘিরে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের জার্সির চাহিদা বেশি।
তবে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সংকট ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে জার্সির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। ভালো মানের জার্সির দাম এখন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকারও বেশি। এতে অনেক ক্রেতাই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
করিমগঞ্জ বাজারের ‘আনোয়ার স্পোর্টস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার শাহ বলেন, ‘ফ্যাক্টরি থেকে পর্যাপ্ত জার্সি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
‘ডিঙ্গি ফ্যাশন পয়েন্ট’-এর মালিক সত্যজিৎ মোদক শুভ বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সিরও ভালো চাহিদা রয়েছে। মৌসুমভিত্তিক বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বিক্রিও কিছুটা বেশি দামে করতে হচ্ছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, মানভেদে লোকাল জার্সির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্যান এডিশনের দাম ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, প্লেয়ার কপির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং প্লেয়ার এডিশনের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। শিশুদের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে ২০০ টাকা থেকে। এছাড়া ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুটের পতাকা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ৫ ফুটের পতাকা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।
জার্সি ও পতাকার পাশাপাশি ফুটবল, বুট এবং বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বলের বিক্রিও বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে করিমগঞ্জের বাজারে ফুটবলপ্রেমীদের এই উৎসবমুখর উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।